জবির শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও হুমকির ঘটনায়, ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জকসুর

জবি প্রতিনিধি

Aug 9, 2026 - 00:23
Aug 9, 2026 - 00:29
 0
জবির শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও হুমকির ঘটনায়, ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জকসুর
সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসানকে প্রকাশ্যে অপদস্থ, আঙুল উচিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাফর আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

শনিবার (৮ আগস্ট) জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদকে একজন শিক্ষকের দিকে আঙুল উচিয়ে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। কোনো শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং নিরাপদ একাডেমিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে জকসু।

জকসুর দাবি, ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দল-মত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমান আচরণ করেছেন এবং প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে আসছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়। শিক্ষককে আঙুল তুলে হুমকি দেওয়া, বহিরাগত বা সাবেক শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছে জকসু। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো পর্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা কিংবা উসকানির অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

জকসুর পক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতি এ ঘটনার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও কার্যকর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা ও বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোরালো অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

 বিবৃতিতে বলা হয়, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপদস্থ বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি পুরো শিক্ষকসমাজের মর্যাদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির নীরবতা কাম্য নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি যথাযথভাবে আমলে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জকসু।