ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি আতঙ্ক: নিহত অন্তত ১৫
পারভেজ বাঙালী, কনট্রিবিউটিং রিপোর্টার, চট্রগ্রাম
ম্যানিলা, ফিলিপাইন: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও (Mindanao) দ্বীপে আঘাত হেনেছে ৭.৮ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়াবহ ভূমিকম্প। আজ সোমবার (৮ জুন) ফিলিপাইন সময় সকাল ৭:৩৭ মিনিটে (জিএমটি রবিবার রাতে) এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনসহ পার্শ্ববর্তী ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় তাৎক্ষণিক সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তীব্র ঝাঁকুনি এবং ভবন ধসের কারণে আহত হয়েছেন ১২৯ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাণিজ্যিক কেন্দ্র
ভূমিকম্পটির মূল কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র 'জেনারেল সান্তোস সিটি'র (General Santos City) কাছাকাছি সমুদ্র উপকূলের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতা কম হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। তীব্র ঝাঁকুনিতে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বহুতল শপিং মল এবং আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রধান সড়কগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে তিন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়। ইতিমধ্যেই ফিলিপাইনের উপকূলবর্তী কিছু এলাকায় ৩ ফুট (প্রায় ১.৪ মিটার) উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে দফায় দফায় আফটারশক বা অনুকম্পন। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মূল ধাক্কার পর ওই এলাকায় ৬.১ এবং ৬.০ মাত্রার একাধিক শক্তিশালী আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়রের জরুরি নির্দেশ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্গতদের উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে (NDRRMC) উপদ্রুত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।