এনসিটি পরিচালনা: বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এবার লড়াইতে দেশীয় ‘জোট’।

পারভেজ বাঙালী,কন্ট্রিবিউটর,রিপোর্টার,চট্টগ্রাম।

Jun 9, 2026 - 01:11
Jun 9, 2026 - 01:38
 0
এনসিটি পরিচালনা: বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এবার লড়াইতে দেশীয় ‘জোট’।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেতে এবার নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে এই টার্মিনালটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও, নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেক্ষাপট বদলে গেছে।

এবার এনসিটির হাল ধরতে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশীয় তিন প্রতিষ্ঠানের একটি শক্তিশালী জোট। গত ২৮ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আগামী ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার একটি যৌথ প্রস্তাব জমা দিয়েছে এই জোট।

একই দিনে এককভাবে আরেকটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে দেশীয় শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ এমজিএইচ (MGH)। তবে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বন্দর ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কারা আছেন এই দেশীয় জোটে? 

এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া এই ত্রিপক্ষীয় জোটের নেতৃত্বে রয়েছে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার পরিচিত মুখ সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।

জোটের বাকি দুটি অংশীদার প্রতিষ্ঠান হলো

কসমস এন্টারপ্রাইজ এবং এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, এই জোটে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের শীর্ষ নেতাদের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে: কসমস এন্টারপ্রাইজ:

এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস: প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

দেশী প্রতিষ্ঠানের যুক্তি: 

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও অভিজ্ঞতা রাজনীতির মাঠে ভিন্ন মেরুর হলেও বন্দরের স্বার্থে এক হয়েছেন এই দুই নেতা। এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের এমডি শাহাদাত হোসেন সেলিম জোটবদ্ধভাবে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বন্দরের বিদ্যমান বিধিবিধান ও সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুযায়ী, একটি চলমান সচল টার্মিনাল সরাসরি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশীয় প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব পেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।"

একই সুরে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন জানান, জোটে থাকা তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই বন্দর পরিচালনায় ২৫ থেকে ৩৫ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি দক্ষভাবে এটি পরিচালনা করতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। 

মন্ত্রণালয় কী ভাবছে?

বিগত সরকারের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডের অনুকূলে প্রক্রিয়াটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে থাকায় অনেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান তখন আগ্রহ দেখায়নি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখন একের পর এক দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনসিটির কাজ পেতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব জমা দিচ্ছে। তবে এখনই দেশীয় জোটের এই প্রস্তাব মূল্যায়নের সুযোগ কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। কোনো কারণে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি বা আলোচনা ব্যর্থ হলে, তখনই কেবল নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। 

সব মিলিয়ে, দেশের বৃহত্তম এই কনটেইনার টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত বিদেশি জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতেই থাকছে, নাকি দেশীয় জোটের পক্ষে সরকার অবস্থান নেবে—তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে