এলসি ছাড়াই বড় অঙ্কের আমদানির পথ খুলল, ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলেও ছাড়
পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
দেশের আমদানি বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে সরকার। ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একাধিক বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন নির্ধারিত কোনো আর্থিক সীমার মধ্যে আটকে না থেকে বিক্রয় বা ক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের আমদানিকারকেরা।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন এ কাঠামো কার্যকর করেছে। নতুন নীতিতে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর আগে এলসি ছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা কার্যকর ছিল। বিশেষ করে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত এ ধরনের আমদানির সুযোগ ছিল। নতুন নীতিতে সেই নির্দিষ্ট সীমা আর রাখা হয়নি। ফলে আমদানিকারক ও বিদেশি বিক্রেতার মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্যিক চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আনার পরিসর বাড়ল।
তবে আমদানির অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এলসির বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন বৈধ পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার সহজ করার লক্ষ্যও রয়েছে নতুন নীতিতে।
নতুন আমদানি নীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশে অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানিতে তুলনামূলক সহজ সুবিধা পাবেন।
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্যও বাড়ানো হয়েছে আমদানি সুবিধা। উৎপাদন খরচ কমানো এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ স্থাপনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে নতুন নীতিতে। এর ফলে আমদানি-নির্ভর শিল্প ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আমদানি নীতিতে নজরকাড়া পরিবর্তন এসেছে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও। সম্পূর্ণ তৈরি মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রে ইঞ্জিনক্ষমতার আগের সীমা বাড়িয়ে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে এতদিন আমদানি সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে সহজে পাওয়া যেত না—এমন উচ্চক্ষমতার বিভিন্ন মোটরসাইকেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতির মাধ্যমে আমদানি ব্যবস্থায় ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা আসবে। একই সঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এলসি ছাড়া আমদানির পরিধি বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন ও আমদানি কার্যক্রমে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।