সংঘর্ষের পর ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে বেরোবিতে ১৪৪ ধারা জারি

বেরোবি প্রতিনিধি

Aug 4, 2026 - 13:06
Aug 4, 2026 - 13:21
 0
সংঘর্ষের পর ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে বেরোবিতে ১৪৪ ধারা জারি

সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে সংগঠন দুটির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে এবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিটিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ গত ০৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ০৫ (পাঁচ) জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ আরও ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় তারা রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ ০৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর প্রধান গেইট-এ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একই জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সভা সমাবেশের ডাক দেওয়ায়, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই উক্ত সময়ে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, গতকালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আজ আবার দুটি সংগঠন বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি যাতে আরও ঘোলাটে না হয়, সেজন্য সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তা চেয়ে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী চেয়ে আবেদন করেছেন। বিষয়টি পুলিশ কমিশনার স্যারকে জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক শীর্ষ পাঁচ নেতা এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল।

ছাত্রদল ব্যানারটি অপসারণের দাবি জানালে, দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। দফায় দফায় দু'পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে কিছুক্ষণের জন্য সংঘাত থামলেও রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসের বাইরে পার্কের মোড় থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত ছাত্রদল এবং শিবিরের মহানগর নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

এতে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, শিবিরসমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসানসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষেও ২০ জনের মতো আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বেরোবিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা সচল রয়েছে।