হাতীবান্ধা থানায় মাদক জালিয়াতি: ১ হাজার বোতল উদ্ধার হলেও মামলায় দেখানো হয় ২০০

মুনতাসীর আলিফ , লালমনিরহাট

Jul 26, 2026 - 20:12
 0
হাতীবান্ধা থানায় মাদক জালিয়াতি: ১ হাজার বোতল উদ্ধার হলেও মামলায় দেখানো হয় ২০০
সংগৃহীত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ঘুষ গ্রহণ, উদ্ধার করা মাদক আত্মসাৎ এবং আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তথ্য ও অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়ও সামনে এসেছে।

গত ১৩ মে হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মাদক মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বোর্ডেরহাট ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল স্কাফ ও ১০০ বোতল ফেয়ারড্রিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন পূর্ব কাদমা বনচৌকি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সাদা টয়োটা করোলা ক্রস গাড়িকে ধাওয়া করে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর বালাপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে দৈখাওয়া বাজার এলাকায় গাড়িটি নিয়ে আসার পর সেখান থেকে ১ হাজার বোতল ভারতীয় স্কাফ ও ফেয়ারড্রিল সিরাপ এবং চালক রাসেল হোসেনকে আটক করা হয়।

অনুসন্ধানে পাওয়া একটি গোপন ক্যামেরার ভিডিওতে নিজেকে মাদক ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া মমিনুর ইসলাম বাবু (মেকার বাবু) দাবি করেন, সেদিন করোলা ক্রস গাড়িতে তিনি ১ হাজার বোতল মাদক সিরাপ তুলে দেন। তার অভিযোগ, পুলিশ ১ হাজার বোতল উদ্ধার করলেও মামলায় দেখানো হয়েছে মাত্র ২০০ বোতল। বাকি ৮০০ বোতল পুলিশের সোর্সদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।

একই ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, আটক চালক রাসেল হোসেন ও করোলা ক্রস গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার পর চালক ও গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মামলার এজাহারে চালক রাসেল হোসেনকে পলাতক দেখানো হয় এবং করোলা ক্রসের পরিবর্তে একটি পুরোনো প্রটোন প্রাইভেটকার জব্দ দেখানো হয়।

মামলার দুই সাক্ষীর বক্তব্যেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। গ্রাম পুলিশ কবির হোসেন ও চৌকিদার ইসরাইল হোসেন জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০০ বোতল মাদক উদ্ধারের কথাই জানতে পারেন এবং পরে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্য ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। মামলার বাদী এসআই জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের হাতীবান্ধা থানা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর ১৮ জুন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কালীগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযোগে উল্লেখিত সেই করোলা ক্রস গাড়ি থেকে আবারও মাদকসহ চালক রাসেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় রাসেল হোসেন, বাদল আহমেদ জুয়েলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।