রংপুরের আলোচিত মনজুরুল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাভার থেকে গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট

Jun 8, 2026 - 23:05
 0
রংপুরের আলোচিত মনজুরুল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাভার থেকে গ্রেফতার

রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মঞ্জুরুল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: মহাব্বত আলীকে (৩১) ঢাকার সাভার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন মামলার প্রধান অভিযুক্ত।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় র‍্যাব-১৩ (রংপুর) এবং র‍্যাব-৪ (সাভার)-এর যৌথ অভিযানে সাভারের বৌবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মহাব্বত আলী তারাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ঘনিরামপুর ঝাকুয়াপাতা গ্রামের মৃত খাদেমুল ইসলামের ছেলে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মঞ্জুরুল হোসেন (৪৫)। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তার স্ত্রী মোছা. জান্নাতি বেগম তারাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের দুই দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা মৌজার একটি আলু ক্ষেতে রক্তের দাগ এবং সদ্য খোঁড়া মাটির চিহ্ন দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে মঞ্জুরুলের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে র‍্যাব। ছায়া তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রধান আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মহাব্বত আলী ও তার সহযোগীরা মঞ্জুরুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। পরে হত্যার আলামত গোপন করতে মরদেহ একটি আলু ক্ষেতে পুঁতে রাখা হয়। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অভিযুক্তরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুরুলের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর প্রধান আসামির গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।