শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত ৭ বছরের শিশু উদ্ধার, অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

Jul 22, 2026 - 18:10
 0
শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত ৭ বছরের শিশু উদ্ধার, অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত ৭ বছরের শিশু উদ্ধার, অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (পিপিএম)-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যায়। ছুটির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠীর কাছ থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় এবং বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করেন। এরপর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে টানা অভিযান শুরু করে।

অভিযানে মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর পিতার আপন মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের অর্থ ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু অপহরণসহ সব ধরনের গুরুতর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।