হঠাৎ সাথী জানলেন তাকে ৩ বছর আগেই তালা/ক দিয়েছে স্বামী, ছিল যোগাযোগ

সুজন  হাওলাদার, কনট্রিবিউটিং রিপোর্টার, বরিশাল 

Jun 7, 2026 - 16:19
Jun 7, 2026 - 16:31
 0
হঠাৎ সাথী জানলেন তাকে ৩ বছর আগেই তালা/ক দিয়েছে স্বামী, ছিল যোগাযোগ
সাথী

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাভা গ্রামে প্রেম, বিয়ে ও তালাককে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাভা গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের বজলুর রহমান মৃধার মেয়ে সাথী আক্তারের সাথে একই গ্রামের (বর্তমানে পৌরসভার কুন্দিহার এলাকার) মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে রাশেদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাথীর প্রথম স্বামীর সাথে ২০২৩ সালে পারিবারিক কলহের জেরে তালাক হওয়ার পর তিনি একাকিত্বে ভুগছিলেন। এ সুযোগে রাশেদ তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

পরবর্তীতে সাথী জীবিকার তাগিদে ঢাকায় যেতে চাইলে রাশেদ তাকে বাধা দেন এবং দাবি করেন, ঢাকায় গেলে সাথী তাকে ভুলে যেতে পারেন। এরপর রাশেদ সাথীকে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে নামমাত্র ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সাথী ঢাকায় গিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এ সময় রাশেদ মাঝে মাঝে গাজীপুরে সাথীর বাসায় গিয়ে অবস্থান করতেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাশেদ বানারীপাড়ার এক কাজীর মাধ্যমে একতরফাভাবে সাথীকে তালাক দেন।
এখানেই শেষ নয়, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে চলতি বছরের মার্চ মাসে বরিশাল শহরের সদর রোড এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে দুই দিন একসাথে সময় কাটান এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। তখনও সাথী জানতেন না যে তাকে আগেই তালাক দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার মোড় নেয় যখন কিছুদিন আগে রাশেদ হোয়াটসঅ্যাপে তালাকনামা পাঠান। এরপর সাথী বিষয়টি জানতে পেরে রাশেদের কাছে স্বীকৃতি দাবি করেন। তবে রাশেদ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ঘটনায় সাথী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হন। তিনি খরচ না পেলেও সংসার করতে ইচ্ছুক বলে জানান এবং স্বামীর স্বীকৃতি চান। এরই প্রেক্ষিতে ১ জুন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাশেদের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করেন সাথী। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। পরে সাথীকে বুঝিয়ে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে রাশেদের প্রথম স্ত্রী জানান, তিনি এই সংসারের প্রথম স্ত্রী এবং শেষ পর্যন্ত এখানেই থাকতে চান। তিনি বলেন, “আমি সতীনের সংসার করব না।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগামী ১০ জুন পুনরায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে একটি ন্যায্য সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু ও ইনসাফভিত্তিক সমাধান হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ ইচ্ছামতো বিয়ে ও তালাক দিয়ে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।