জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা অসম্ভব, প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য: চসিক মেয়র
পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শক্তি ও প্রেরণা জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। তবে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের পুনর্বাসন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে’ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দোলনের অগ্রভাগে সব সময়ই চট্টগ্রাম
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে চসিক মেয়র বলেন, দেশের যেকোনো সংকট ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে চট্টগ্রাম সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে চট্টগ্রামের মানুষের অবদান অবিস্মরণীয়।
তিনি উল্লেখ করেন:
জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে চট্টগ্রাম থেকে ৩ জন বীর সন্তান শহীদ হয়েছেন।
আবু সাঈদসহ সারা দেশে অসংখ্য মানুষ এই বিপ্লবে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
এই বীরদের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
"শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য। সব ধরনের বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।"
— ডা. শাহাদাত হোসেন, মেয়র, চসিক
মেয়র তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই-আগস্টের চেতনাকে ধারণ করে শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে শহীদদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, তিনি নিজে শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সাথে দেখা করেছেন। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীও ওয়াসিমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের প্রতিটি শহীদ পরিবার যাতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্মৃতি স্তম্ভে ওয়াসিমের নাম না থাকায় ক্ষোভ
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে স্মৃতি স্তম্ভে শহীদ ওয়াসিম আকরামের নাম তালিকায় না দেখে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন চসিক মেয়র। তিনি বলেন, "যাঁরা দেশের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের নাম বাদ পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক শহীদের নাম যথাযথ মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করা। এই ভুল দ্রুত সংশোধন করা দরকার।"
নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বা শহীদদের অবদানকে কোনোভাবেই বিকৃত হতে দেওয়া যাবে না। এর সঠিক ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।
রক্ষণাবেক্ষণে পাশে থাকবে সিটি কর্পোরেশন
বর্তমানে রেলওয়ে স্টেশন এলাকার জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভটি জেলা প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র জানান, ভবিষ্যতে এই স্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ বা দেখাশোনার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে এবং দায়িত্ব চসিকের কাছে হস্তান্তর করা হলে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর সার্বিক উন্নয়ন ও সংরক্ষণের দায়িত্ব সানন্দে গ্রহণ করবে।
তাছাড়া, অতীতে যেমন চসিক আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও তাঁদের কল্যাণে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।