মৃতপ্রায় কাঁচামাটিয়া নদীপাড়ের মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি
মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদী দীর্ঘদিনের কচুরিপানার জঞ্জাল থেকে মুক্ত হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের জীবনে ফিরেছে স্বস্তি। উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে নদীর দৃশ্যমান পরিবর্তনে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, কচুরিপানা অপসারণের পর মশা, বিষাক্ত পোকামাকড় ও সরীসৃপের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে বসবাসের পরিবেশও আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কাঁচামাটিয়া নদী একসময় এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। নদী পরিষ্কার হওয়ার ফলে আবারও নদীটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ধারাবাহিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে কাঁচামাটিয়া নদী আগের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করবে।
নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিক নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে আসছিল। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এডিপি তহবিলের অর্থায়নে সফলভাবে কচুরিপানা অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়।
নদীপাড়ের বাসিন্দা কামরুল হক বলেন, “কচুরিপানা সরানোর পর মশা ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেক কমেছে। এখন নদীর পরিবেশ অনেক ভালো লাগছে।” স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, “নদী পরিষ্কার হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে নদীটির নাব্যতা আরও বৃদ্ধি পেলে এলাকার মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।”
কচুরিপানার জঞ্জাল থেকে মুক্ত হয়ে কাঁচামাটিয়া নদী এখন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক উদ্যোগে নদীটি আরও প্রাণ ফিরে পাবে এবং ঈশ্বরগঞ্জের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।