ইন্টারনেট অফিসে হামলা-লুটপাট ও ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি: চট্টগ্রামে ৮ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার।

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

Jul 15, 2026 - 20:22
 0
ইন্টারনেট অফিসে হামলা-লুটপাট ও ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি: চট্টগ্রামে ৮ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার।

চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনায় জড়িত ৮ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতভর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপে ২ কোটি টাকার চাঁদা দাবি
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসা ‘ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)’ নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে নিজেকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এক সন্ত্রাসী। সে সময় প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।


চাঁদা না পেয়ে গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চকবাজার থানার চন্দনপুরা বাকলিয়া এক্সেস রোডের ‘মরিয়ম হাইটস’ ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত ডিডিএন-এর অফিসে ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

তারা ফিল্মি স্টাইলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অফিসে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও গ্লাসের দরজা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

ভাঙচুরের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ১টি প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের একটি কাঁধের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অপরাধের খতিয়ান
গ্রেপ্তার হওয়া ৮ আসামির অধিকাংশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

১. মোঃ ইউনুস (৪১): তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মানবপাচার, মাদক ও ছিনতাইয়ের ৫টি মামলা রয়েছে।

২. ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১): তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি, চোরাচালান ও দ্রুত বিচার আইনে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।

৩. আকবর হোসেন (২৪): তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস দমন ও মারামারির ৬টি মামলা রয়েছে।

৪. মোঃ সুমন (২৭): তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদক ও মারামারির ৬টি মামলা রয়েছে।

৫. মোঃ মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮): তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির ৭টি মামলা রয়েছে।

৬. মোঃ নয়ন (২০): তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির ৮টি মামলা রয়েছে।

৭. মোঃ গিয়াস উদ্দিন (২১)

৮. মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ প্রকাশ ফরহাদ (২৮)

পুলিশি অ্যাকশন ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় একটি মামলা (মামলা নং-০৭, তারিখ-১৩/০৭/২০২৬) দায়ের করা হয়।

সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলীর সরাসরি নির্দেশনায় সিএমপির একাধিক চৌকস টিম, চকবাজার থানা পুলিশ এবং র‍্যাব-৭ যৌথ অভিযান চালিয়ে এই ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে।

চকবাজার থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে নিয়ে এখনও অভিযান চলমান থাকায় তদন্তের স্বার্থে তার ছবি প্রকাশ করা হয়নি।