ড্রেন জ্যামে পানির নিচে পোর্ট কলোনি: নিরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

Jul 7, 2026 - 22:47
 0
ড্রেন জ্যামে পানির নিচে পোর্ট কলোনি: নিরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

চট্টগ্রাম বন্দর পোর্ট কলোনি আবাসিক এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলোনির ১ নং রোড থেকে শুরু করে ১৩ নং রোড পর্যন্ত এলাকার ড্রেনগুলো বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় পুরোপুরি জ্যাম হয়ে আছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের নোংরা পানি উপচে আবাসিক এলাকায় কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গৃহবন্দী হয়ে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন এখানকার শত শত সাধারণ পরিবার।

এই চরম ভোগান্তির মুখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—"এই দুর্ভোগের দায় আসলে কার? বন্দর কর্তৃপক্ষের নাকি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)?"

দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন, ভুগছে সাধারণ মানুষ
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, পোর্ট কলোনি ও রেলওয়ে এলাকায় মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করেন। এলাকাটি বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হওয়ায় চসিক এককভাবে এর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিতে প্রায়ই অনীহা প্রকাশ করে। আবার বন্দর কর্তৃপক্ষও ড্রেন পরিষ্কারের বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সচেতন মহলের মতে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় এলাকা হিসেবে চসিকের কিছুটা হলেও আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে যায়, যা তারা এড়িয়ে যেতে পারে না।

প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ: মিষ্টি কথার দিন শেষ
এলাকার এই চরম সংকটের দিনে আসন্ন চসিক নির্বাচনের ৩৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ ভোটারদের মনে। মাঠ পর্যায়ে যখন মানুষ পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাউকেই ড্রেন পরিষ্কার বা পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় ভোটাররা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন:

"নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘরে ঘরে ভোট চাইতে আসেন। তখন পোর্ট কলোনি বা রেলওয়ে এলাকার আইনি অজুহাত দেখান না। কিন্তু এখন বিপদের দিনে কেউ পাশে নেই। যদি এখনই এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বদলে প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে 'লাল কার্ড' খাবেন।"

"পরিবর্তিত বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ সচেতন"
বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান, দেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন আর অন্ধভাবে বা স্রেফ আশ্বাসে বিশ্বাসী নন, বরং কাজের মূল্যায়ন করতে শিখেছেন।

বাসিন্দাদের দাবি, নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে হলে প্রার্থীদের ড্রয়িংরুমের রাজনীতি ছেড়ে মাটিতে নেমে আসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে চসিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত এই ড্রেনগুলোর জ্যাম ছুটিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিপদের দিনে যারা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মুখে হাসি ফোটাবে, ব্যালট বক্সে সাধারণ মানুষও তাদেরই বিজয়ের হাসি ফোটাবে বলে কলোনিবাসী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।