দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট সংসদে উত্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

প্রিয়তোষ রায়, কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, ঢাকা

Jun 12, 2026 - 16:24
 0
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট সংসদে উত্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে তারেক রহমান সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা অপরিহার্য। তিনি দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে এ খাতে ব্যয় হবে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি।

আগামী অর্থবছরে অনুদানসহ সরকারের মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি। এনবিআর-বহির্ভূত উৎস থেকে আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রথমবারের মতো ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণনির্ভর অর্থায়নের কারণে বিনিয়োগ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এবারের বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ নতুন আটটি কর্মসূচি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

করদাতাদের জন্যও কিছু স্বস্তির ঘোষণা এসেছে বাজেটে। ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে রয়েছে রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চাপ। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয় ও অপচয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করাই হবে এবারের বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।