পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়ার আহ্বান
পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের ঘটনায় হতাহতের প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি নগরবাসীকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য আবারও জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার নগরীর চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে যান চসিক মেয়র। সেখানে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। মেয়র শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন:
"একটি প্রাণও অমূল্য। সাময়িক কষ্ট হলেও সবাইকে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে বসবাস করা উচিত নয়।"
প্রশাসনের সতর্কবার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি
মেয়র উল্লেখ করেন যে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা ও সরাসরি অনুরোধ করে আসছে। এরপরও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নগরবাসীর প্রতি মেয়রের জরুরি নির্দেশনা:
আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
প্রশাসনের সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না।
পাহাড়ধসের সামান্যতম আশঙ্কা বা লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দুর্যোগের এই সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সব সময় নগরবাসীর পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
একই সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন। ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন। মেয়র মনে করেন, একমাত্র সচেতনতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতাই পারে এমন আকস্মিক ও মূল্যবান প্রাণহানি রোধ করতে।