রংপুরে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে যুব নারী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
রুশাইদ আহমেদ, কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, রংপুর
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কার্যক্রমে যুব নারী ও প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রংপুরে একটি আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরে আরএইচস্টেপের অপরাজেয় তারুণ্য (ইউওয়াইপি) প্রকল্পের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির রংপুর শাখার সেমিনার কক্ষে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘Empowering Every Voice, Removing Every Barrier: Young Women and Youth with Disabilities Leading Inclusive Health Reform’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে যুব নারী, প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দীপিকা বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর প্রতিবন্ধী অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আহসান হাবীব। সভাপতিত্ব করেন অপরাজেয় তারুণ্য রংপুর শাখার প্রকল্প কর্মকর্তা অনিমেষ রায়। সঞ্চালনায় ছিলেন ইয়ুথ অফিসার স্বর্ণালী আচার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপিকা বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ নারী ও প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের নেতৃত্ব ও মতামতকে গুরুত্ব দিলে স্বাস্থ্যসেবা আরও সমতাভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব হবে।
বিশেষ অতিথি আহসান হাবীব বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার। কিন্তু অবকাঠামো, তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগব্যবস্থা ও সেবাদান প্রক্রিয়ায় এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের প্রতিটি উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের, অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মেন্টর রুমান একটি সৃজনশীল অংশগ্রহণমূলক সেশন পরিচালনা করেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা দলীয় আলোচনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে যুব নারী ও প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণের সুযোগ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত দেন।
আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচির উদ্দেশ্য যুব নারী ও প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের জ্ঞান, নেতৃত্বের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, যাতে তাঁরা অধিকারভিত্তিক, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। এ উপলক্ষে উপস্থাপনা, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষণ ও অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য খাত গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।