ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ চসিক মেয়রের, নেওয়া হবে ১০ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

Jul 19, 2026 - 21:53
 0
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ চসিক মেয়রের, নেওয়া হবে ১০ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি

সাম্প্রতিক টানা রেকর্ড বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে ১০ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

রোববার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে বৃষ্টি-পরবর্তী সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন মেয়র।

সভায় প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সর্বশেষ অবস্থা ও সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় মেয়র বলেন, রেকর্ড বৃষ্টিতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই নাগরিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং এ কাজে কোনো ধরনের বিলম্ব করা যাবে না।

সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে গুরুত্ব দিয়ে মেয়র জানান, নগরীকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করতে ১০ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান ও আইল্যান্ডে স্থাপিত রেলিং প্রায়ই চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং অসচেতন চলাচল ও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে অনেক গাছ নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে মেয়র রেলিংকে আরও টেকসই ও চুরিরোধী করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে লোহার পরিবর্তে ফেরোসিমেন্ট বা ফাইবার দিয়ে সুরক্ষা কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হলে মেয়র আগ্রাবাদ এলাকায় এক কিলোমিটারজুড়ে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। পরীক্ষায় সফল হলে পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত মিডিয়ান আইল্যান্ডে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেলিং নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে ব্যাহত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, বৃষ্টির পানির সঙ্গে আসা কাদা, পাহাড়ি মাটি ও বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরী পরিষ্কার রাখতে হবে।

প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে অতিরিক্ত ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলে মেয়র ৫ হাজার বড় ও ৫ হাজার ছোট ডাস্টবিন সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপনের নির্দেশ দেন।

এ সময় তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ এবং সড়ক, নালা বা খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন মেয়র।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।