ফুটপাতে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্বে খুন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

প্রিয়তোষ রায়, কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, রমনা

Jun 9, 2026 - 21:17
Jun 9, 2026 - 21:18
 0
ফুটপাতে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্বে খুন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার (বাম পাশে), হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবু(ডান পাশে )

রাজধানীর রমনা থানার মৌচাক-আনারকলি মার্কেট এলাকায় ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদার।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুলসংলগ্ন আনারকলি সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার এবং রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আনারকলি সুপার মার্কেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে বিল্লালের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দিদারুলের সহযোগী সিরাজুল ছোরা দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা এবং অভিযুক্তও একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। তবে প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মারধর ও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

নিহতের ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশ দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা কয়েকজন আনারকলি মার্কেটের পার্কিং এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় দিদারুল ইসলাম বাবু তার অনুসারীদের নিয়ে সেখানে আসেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে ধস্তাধস্তির সময় মাটিতে পড়ে যাওয়া একটি ছোরা তুলে সিরাজুল বিল্লালের বুকে আঘাত করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ কাজ করেছে। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিরোধ মীমাংসায় বিল্লাল প্রায়ই সালিশ করতেন। বিষয়টি নিয়ে দিদারুল ইসলামের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল।

পরিবারের অভিযোগ, গত বছর মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয় ও মালিকের বাসায় ভাঙচুরের একটি মামলায়ও বিল্লালকে জড়ানো হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান এবং পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর রাতেই দিদারুল ইসলাম বাবুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রমনা থানা যুবদলের বর্তমান কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

পুলিশ জানিয়েছে, মৌচাক-আনারকলি এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্বশত্রুতার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় রমনা থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।