নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঙ্গা কক্সবাজার ফিশারিঘাট: ট্রলারভর্তি রুপালি ইলিশ, চড়া দামেই কিনছেন ক্রেতারা

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

Jun 17, 2026 - 17:37
 0
নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঙ্গা কক্সবাজার ফিশারিঘাট: ট্রলারভর্তি রুপালি ইলিশ, চড়া দামেই কিনছেন ক্রেতারা
সমুদ্র সৈকতে জেলেদের রুপালী ইলিশ আহরন

দীর্ঘদিন সুনসান থাকার পর দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কক্সবাজার ফিশারিঘাটে আবারও ফিরেছে চিরচেনা কোলাহল। সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা কাটতেই গভীর সমুদ্র থেকে একের পর এক ট্রলার ঘাটে ভিড়তে শুরু করেছে।

আর এসব ট্রলার বেয়ে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশসহ হরেক পদের সামুদ্রিক মাছ। বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই ঘাটের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রলার থেকে মাছ খালাস, হাঁকডাক আর জেলে-ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় পুরো মৎস্য বন্দর এলাকা এখন মুখরিত।

দীর্ঘ ৫৮ দিন পর গত ১১ জুন মধ্যরাতে সাগরে জাল ফেলার অনুমতি পান জেলেরা। তবে সাগরে মাছের আধিক্য থাকলেও বাধ সেধেছে প্রকৃতি। জেলেরা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা ইচ্ছেমতো জাল ফেলতে পারছেন না। ফলে সাগরে প্রচুর মাছ থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ শিকার নিয়ে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান,

গত কয়েকদিন ধরে অল্প পরিমানে ইলিশের আমদানি শুরু হয়েছে। বাজারে সরবরাহ এখনো চাহিদার তুলনায় কম হলেও, তাজা রুপালি ইলিশ দেখতে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন।

বর্তমানে ঘাটের পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইলিশের দরদাম নিচে দেওয়া হলো: মাছের আকার আনুমানিক দাম (প্রতি কেজি) মাঝারি সাইজ ১,২০০ টাকা বড় সাইজ ২,০০০ টাকা অতিরিক্ত বড় (এল সাইজ) ২,০০০+ টাকা আরেক পাইকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ সেলিম জানান,

সাগরে ট্রলার যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম একটু চড়া থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা: মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেই আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তখন দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় গত ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে টানা ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল, যা গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে।