বরাদ্দ-ভাড়া ছাড়াই সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস, লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

সায়েম খান, মানিকগঞ্জ

Jul 11, 2026 - 18:50
 0
বরাদ্দ-ভাড়া ছাড়াই সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস, লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের ডরমেটরিসহ সাতটি আবাসিক ভবনে বরাদ্দ না নিয়ে অবৈধভাবে থাকছেন বেশিরভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ না নিয়ে অবৈধভাবে বাসাগুলো দখলে রেখে থাকছেন তারা। এদের বেশিরভাগই বাসা ভাড়া দেন না। অথচ সরকারি কোয়ার্টারে থেকে বেতনের সঙ্গে বাসা ভাড়াও নিচ্ছেন তারা। কোয়ার্টারগুলোতে অবৈধভাবে কারা থাকছেন, কতদিন ধরে থাকছেন সেই তথ্যও নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম চললেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলজিইডি অফিসের অধীনে উপজেলা পরিষদ ডরমেটরি ও তিনটি কোয়ার্টার ভবন এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) অধীনে তিনটি ভবন রয়েছে। ভবনগুলোর ফ্ল্যাটে কেউ সপরিবারে, কেউ ব্যাচেলর হিসেবে এবং কেউ কেউ কয়েকজন মিলে মেস করে থাকছেন। এদের বেশিরভাগই নিয়ম অনুযায়ী বাসা বরাদ্দ নেননি। বাসা ভাড়াও দেন না। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনের সঙ্গে বাসা ভাড়া বাবদ আলাদা টাকা পান। বিনা ভাড়ায় সরকারি কোয়ার্টারে থেকে সরকারি বাসা ভাড়ার টাকা পকেটে ভরছেন তারা। অথচ প্রতিবছর বিদ্যুৎ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণে ভবনগুলোর পেছনে লাখ টাকা খরচ হয়। মাসে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বিআরডিবি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাদের অধীনে থাকা তিনটি ভবনের মধ্যে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী ভবনে যারা থাকেন, তারা বিধি মোতাবেক বরাদ্দ নিয়েছেন এবং নিয়মিত বাসা ভাড়া দিচ্ছেন। এদের মধ্যে তাদের নিজস্ব স্টাফই বেশি। তবে কপোতাক্ষ ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা ভূমি অফিসের শাহিন মিয়া, নির্বাচন অফিসের কাউসার, বাশার ও নাজমুল, পিডিবিএফ অফিসের আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী, গ্রাম আদালতের বোরহান ও মাসুম মিয়া এবং নিচতলায় আনসার সদস্যরা থাকছেন। এই ভবনের সবাই বরাদ্দ না নিয়ে অবৈধভাবে থাকছেন। এদের কেউই বাসা ভাড়া দেন না।

অপরদিকে, এলজিইডির অধীনে থাকা উপজেলা পরিষদ ডরমেটরিসহ মেঘনা, পদ্মা ও তুরাগ নামের তিনটি ভবন রয়েছে। এসব ভবনে কারা থাকেন, কতদিন ধরে থাকেন, কারও নামে বিধি মোতাবেক বরাদ্দ আছে কি না বা কেউ ভাড়া দেন কি না এসব কোনো তথ্যই নেই এলজিইডি অফিসে। তথ্য সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা জানালেও পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলী তথ্য দিতে গড়িমসি করেন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেঘনা ভবনে এসিল্যান্ড এবং দুটি ফ্ল্যাটে মেস করে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন। পদ্মা ভবনে সিএ মিলন হোসেন, শিক্ষা অফিসের দিলীপ, ইউএনও অফিসের রবিন, বিআরডিবির আবু হোসেন এবং এলজিইডি অফিসের কয়েকজন মেস করে থাকেন। অপরদিকে তুরাগ ভবনে শামীমা এবং উপজেলা পরিষদের গাড়িচালক দিদার থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর কবির সরকার জানান, আমরা জুন মাস পর্যন্ত কিছু বিদ্যুৎ বিল আদায় করেছি। ভবনগুলোর বিষয় নিয়ে এলজিইডি এবং ইউএনও স্যারের সঙ্গে সভার কথা রয়েছে। এরপর এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও বাসা বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব মো. শাহীনুজ্জামান তথ্য সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তথ্য দিতে গড়িমসি করেন।