আদিতমারীতে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশে হা/ম/লা: গ্রেপ্তার ১০, কারাগারে প্রেরণ
মুনতাসীর আলিফ ,লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সরকারি কাজে বাধা, সরকারি যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হাম/লার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ দল ওই ১০ জনকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রাশেদুল মিয়া (২০), মেহেদী হাসান (২০), জাহিদ হাসান (২২), ফজলুল হক (৪৩), আসাদুজ্জামান (৪৫), আব্দুর রশিদ (৬২), আনন্দ কুমার (২০), উত্তম কুমার (২০), নীলকান্ত (৪০) এবং জীবন চন্দ্র বর্মণ (২৪)।
গত ১৬ জুন ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে ব্র্যাকের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রাণী নিখোঁজ হওয়ার পরদিন একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বিধান চন্দ্র বর্মণের নাম সামনে এলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার বাড়িতে হাম/লা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা বিধানের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে পুলিশ সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্র বর্মণ ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে থানায় নেওয়ার সময় তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ চারটি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করে। ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজিবসহ অন্তত ৩৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধন ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হাম/লার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে প্রথম ধাপে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে অভিযানের পর এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় কয়েকটি গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।