সন্দ্বীপে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ছেনী বাবলু’সহ গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক
পারভেজ বাঙালী, কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ‘ছেনী বাবলু’ (৩৫) এবং তার সহযোগী মো. জুয়েল রানাকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দ্বীপ থানার একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃত বাবলু সন্দ্বীপের শফি মেম্বারের ছেলে এবং জুয়েল রানা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সন্দ্বীপের তাহের বাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩টি দেশীয় তৈরি এলজি (পাইপগান), ৪টি কার্তুজ, একটি ছেনি, একটি চাপাতি, ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করে।
পুলিশের দাবি, ছেনী বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দাঙ্গা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে নতুন করে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. মাসুদ আলম, বিপিএম জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তার নির্দেশনায় জেলার ১৭টি থানায় একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, চলমান মেগা অভিযানে এ পর্যন্ত ২২৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্র-সংক্রান্ত ৯টি মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩ পিস ইয়াবা ও ৯২ কেজি গাঁজা। এ সংক্রান্ত ১৫২টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯৫ জন।
এ ছাড়া ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৫টি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ।