ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বরগুনা
প্রিয়তোষ রায়,কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, ঢাকা
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বরগুনা জেলা। তাঁর সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য এক অনন্য জনপদ।
বরগুনা নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে নানা মতভেদ প্রচলিত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করে প্রমত্তা নদী পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকা পারাপারের জন্য দড়িতে বড় বড় গুন টানতে হতো বলে এই স্থানের নাম হয় বরগুনা। আবার অনেকের মতে বরগুনা নামের কোনো প্রতাপশালী রাখাইন অধিবাসী কিংবা বাওয়ালীর নামানুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে।
পূর্বে বরগুনা বৃহত্তর সুন্দরবনের অংশ ছিলো, যা পরবর্তীতে বন কেটে আবাদযোগ্য করা হয়। ১৮৫৬ সালে সুন্দরবন এস্টেট হিসেবে অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৮ শতকের শেষ দিকে এখানে বরগুনা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি ১৯৬৯ সালে মহকুমায় উনীত করা হয় এবং ১৯৮৪ সালে পূর্নাঙ্গ জেলায় রূপান্তরিত হয়।
বরগুনার বেতাগী তে অবস্থিত বিবিচিনি মসজিদটি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য,যা ১৬৫৯ সালে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
তালতলীর বৌদ্ধ মন্দির এখানকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান তীর্থস্থান ও রাখাইন সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন।
পাথরঘাটার হরিণঘাটা, লালদিয়া সমুদ্রসৈকত, শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত এবং সোনাকাটা ইকোপার্ক এ জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।
বরগুনার সংস্কৃতিতে বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি রাখাইন সংস্কৃতির এক চমৎকার মিশ্রণ রয়েছে। রাখাইনদের ফানুস ওড়ানো, বিভিন্ন উৎসব এবং নিজস্ব কুটির শিল্প এর উজ্জ্বল উদাহরণ। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে বিশখালীর ইলিশ, নারিকেলের সুরুয়া এবং চুইয়া পিঠা খুবই জনপ্রিয়।
মোঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন, রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি এবং নদীমাতৃক অর্থনীতি ও নৈসর্গিক সমুদ্রসৈকত এ জেলার মূল আকর্ষণ, যা বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।